বর্তমান সময়ের তথ্য অনুসন্ধিৎসু মানুষ সংবাদ জানার ক্ষেত্রে প্রথাগত মাধ্যমের পাশাপাশি এআই চ্যাটবটগুলোর ওপর ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারত ও আমেরিকার নিয়মিত এআই ব্যবহারকারীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো চ্যাটবটগুলো এখন আর কেবল নিছক কৌতূহল নয়, বরং জটিল বিষয় বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে একটি কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্যবহারকারীরা মূলত কোনো সংবাদের প্রেক্ষাপট বা ইতিহাস জানতে এবং তথ্যের সহজবোধ্য বিশ্লেষণের জন্য এআই-কে বেছে নিচ্ছেন। তবে মজার বিষয় হলো, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই মনে করেন না যে এটি প্রচলিত সংবাদ মাধ্যমের পুরোপুরি বিকল্প; বরং তারা বিদ্যমান খবরের পরিপূরক হিসেবেই এটিকে ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এআই চ্যাটবটগুলোর আকর্ষণীয় উপস্থাপনা, বিজ্ঞাপনহীন কাঠামো এবং ব্যক্তিগত চাহিদানুযায়ী তথ্য পাওয়ার সুবিধা ব্যবহারকারীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের প্রতি কিছুটা অনাস্থা পোষণ করলেও এআই-এর দেওয়া তথ্যের ওপর তুলনামূলক বেশি ভরসা রাখছেন।
যদিও এআই অনেক সময় ভুল বা পুরনো তথ্য সরবরাহ করে, তবুও এর উৎসাহব্যঞ্জক সুর এবং সহজ ভাষার ব্যবহারের কারণে ব্যবহারকারীরা একে তথ্য সংগ্রহের একটি বন্ধুসুলভ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে কোনো সংবেদনশীল আইনি বা দাপ্তরিক তথ্যের ক্ষেত্রে তারা একাধিক এআই টুল ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে নেওয়ার প্রবণতাও দেখাচ্ছেন।
গবেষণায় আরও দেখা যায় যে, চ্যাটজিপিটি এবং গুগল জেমিনি বর্তমানে ব্যবহারকারীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন চ্যাটবট ব্যবহার করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে একটির ফ্রি কোটা শেষ হলে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।
তথ্যের এই নতুন ধারার সাথে মানিয়ে নিতে এবং আধুনিক মানুষের তথ্য সংগ্রহের অভ্যাস বুঝতে সংবাদ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্য এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদদের মতে, এআই চ্যাটবটগুলো সাংবাদিকতার মৌলিক কাঠামোর জায়গা দখল করতে না পারলেও তথ্য আদান-প্রদানের ধরনে এক বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
মুহূর্ত/এমএইচ