বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. শাহরুখ খান। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি জেলা প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি না মেলায় বাবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জেলগেটে। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য বাবাকে শেষবার দেখার সুযোগ পান কারাবন্দী এই ছাত্রলীগ নেতা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শাহরুখের বাবা আবুল বাশার খান (৫৮)। তিনি পেশায় বটতলা টেম্পোস্ট্যান্ডের লাইনম্যান ছিলেন। এদিকে, গত শুক্রবার মধ্যরাতে নিজ বাসা থেকে পুলিশ শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
শাহরুখের ভাই সালমান খান অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুর পর ছোট ভাইয়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করা হয়। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কারাগারে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং জানান যে সেখান থেকেই ব্যবস্থা করা হবে।
তবে কারাগারে পৌঁছানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে এমন কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। সালমান আক্ষেপ করে বলেন, "বিকেল পৌনে চারটার দিকে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারে নেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য বাবাকে দেখার সুযোগ পায় শাহরুখ।"
এই বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা প্যারোলে মুক্তির আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় আসামির স্বজনদের কারাফটকে মরদেহ নিয়ে গিয়ে দেখা করানোর ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। সেই নির্দেশনাই স্বজনদের জানানো হয়েছিল।
শাহরুখের আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, "প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়নি।"
জেলগেটে দেখার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নগরের নিউ সার্কুলার রোডের গাজীবাড়ি মসজিদে। সেখানে বাদ আসর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের পপুলার এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহরুখের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলায় তাকে আসামি করার পর গ্রেপ্তার করা হয় এবং গ্রেপ্তারের পর আরও তিনটি মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে।