শেখ হাসিনার ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যে ঢাকার তীব্র প্রতিবাদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCC) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ডকৃত অডিও বার্তা প্রচার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক প্রকাশ্য ভাষণ। সেখানে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সমর্থকদের সরকার পতনের ডাক দেন। একইসঙ্গে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের উসকানি দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য “গুরুতর হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের আপত্তির মূল পয়েন্টগুলো হলো: বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ডাক দেওয়া এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালার পরিপন্থী। এটি সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের চরম লঙ্ঘন। সরকার জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হলেও ভারত এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তাকে এ ধরনের উস্কানিমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে নসাৎ করতে শেখ হাসিনা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল সময়োপযোগী। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে এবং এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

















