মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার আসামির আপিল খারিজ করে এবং ডেথ রেফারেন্স নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতের বেঞ্চ উল্লেখ করেন, মামলায় বর্ণিত ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ এবং হিটু শেখই যে এই অপরাধ করেছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।
এই মামলার বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রায়ের বিস্তারিত বিবরণ জানা যাবে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক বলেন, হিটু শেখ যদি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি স্থগিত থাকবে।
এর আগে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ হিটু শেখের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ করে গত ২৪ আগস্ট রায়ের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।
গত বছরের ৩০ জুন হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের করা একটি নিয়মিত আপিল এবং একটি জেল আপিল শুনানির জন্য আমলে নিয়েছিলেন। ওই বেঞ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টিও স্থগিত করেছিলেন।
গত ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে হিটুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার স্ত্রী জাহেদা বেগম (৩৮) এবং তাদের দুই ছেলে রাতুল শেখ (১৮) ও সজীব শেখকে (২০) খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ মার্চ মাগুরা সদরে তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল আছিয়া। ৬ মার্চ ভোরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে।
এরপর শিশু আছিয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে ৮ মার্চ তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। ১৩ মার্চ মারা যায় আছিয়া।
এরপর শিশুটির মা ৮ মার্চ হিটু শেখ, জাহেদা, সজীব ও রাতুলকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক। হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. হাফিজুর রহমান খান।