উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অগ্নি নির্বাপণ, যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবে অনুশীলনের লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ বিষয়ক জরুরি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত মহড়ায় বিমানবন্দরে কর্মরত ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই এবং জরুরি অবস্থায় বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, প্রস্তুতি এবং কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো মহড়া প্রত্যক্ষ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা। গত বছর বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ভিআইপি ও সিআইপিসহ সকলের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রোটোকল সমানভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়নকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংসদ সদস্য জনাব এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাইয়ে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিদ্যমান প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে জনবলের পেশাগত দক্ষতা, জরুরি সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়। তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থা এবং আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
মহড়ায় অংশগ্রহণ নেন বেবিচক ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন, জাহানারা ক্লিনিক লিমিটেড, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।