ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পারায় নয়টি ফ্লাইট অন্যান্য বিমানবন্দরে গিয়ে অবতরণ করেছে।
শুক্রবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাইভার্ট হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে চারটি চট্টগ্রামে, চারটি ভারতের কলকাতায় এবং একটি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পাঠানো হয়।
তবে কুয়াশা কেটে গেলে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হয়।
ঢাকার বিমানবন্দরে ক্যাটাগরি-১ ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম চালু রয়েছে। ফলে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা ও কম দৃষ্টিসীমার কারণে ঘন ঘন ফ্লাইট ডাইভার্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান ক্যাটাগরি-১ আইএলএসকে ক্যাটাগরি-২ এ উন্নীত করা গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে। তবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এখনো প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারেনি।
আইএলএস হলো একটি নির্ভুল রানওয়ে অ্যাপ্রোচ সহায়ক ব্যবস্থা, যা রেডিও সিগন্যাল ও উচ্চ ক্ষমতার আলোক ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘন কুয়াশার মধ্যেও পাইলটদের অবতরণে দিকনির্দেশনা দেয়।
এই উন্নয়ন না হওয়ায় কম দৃশ্যমানতার সময় ফ্লাইটগুলোকে প্রায়ই সিলেট, চট্টগ্রাম, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়। এতে সামগ্রিক ফ্লাইট সূচিতে বিলম্ব, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ও বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ ও পার্কিং ফিসহ নানা খরচের কারণে এয়ারলাইনের আর্থিক ক্ষতি হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জ্যেষ্ঠ এক পাইলট আজ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, একটি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা এবং পরে ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে দূরত্ব অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সেফটি প্রধানরা বলেন, ঢাকার বিমানবন্দরে আসলে ক্যাটাগরি-৩ আইএলএস প্রয়োজন, যা শূন্য দৃশ্যমানতাতেও বিমান অবতরণে সক্ষম। কলকাতা বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-২ আইএলএস চালু রয়েছে।
পাইলটদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য ন্যূনতম ৮০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন।
আইএলএস উন্নীত করতে হলে অত্যন্ত নির্ভুল রেডিও সিগন্যালভিত্তিক নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা পাইলটদের উল্লম্ব ও অনুভূমিক দিকনির্দেশনা দেবে।