শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে হুমকি দেয়া বৈছাআ নেতা মাহদীর জামিন

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব। গ্রেফতার হওয়ার ১৪ ঘণ্টা পর রোববার সকালে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার তাজুল ইসলাম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাহদী হাসানের আইনজীবী এম এ মজিদ জানান, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহদীকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক আব্দুল মান্নান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
হবিগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় করা মামলায় মাহদীকে আদালতে তোলা হয়েছিল। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল শনিবার মাহদীকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন একদল ব্যক্তি। তারা রাতেই আদালত বসিয়ে মাহদীর জামিন শুনানির দাবি জানান।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের সূত্র জানায়, নয়নের মুক্তি দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কর্মীরা শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে থানার সামনে অবরোধ করে।
ওসির কক্ষে ঢুকে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’
এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে বিকেল ৩টার দিকে নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে মাহদী দাবি করেন, নয়নের আটক ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার বক্তব্যটি সঠিক ছিল না স্বীকার করে তিনি বলেন, উত্তেজনার বশে ‘মুখ ফসকে’ তিনি এমন মন্তব্য করে ফেলেছিলেন।
এদিকে, ওসির সাথে অশোভন আচরণের কারণে শনিবার মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি। তার মন্তব্য সংগঠনের মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


















