নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (৩০ মে) পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। এই উপলক্ষে সকাল সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে অবস্থিত মরহুম রাষ্ট্রপতির সমাধিতে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং মরহুম নেতার প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ সারির হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জিয়ারত পর্ব শেষে মাজার প্রাঙ্গণেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে আগামী ১ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, বিশেষ পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং দরিদ্রদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি অনন্য ইতিহাস রচনা করেন এবং সম্মুখসমরে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনায় নির্মমভাবে নিহত হন এই দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। প্রতিবছর এই দিনটিকে তাঁর অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকেন।