বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন শপথ নিয়েছেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
১০ জানুয়ারি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স ও ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে এ খবর জানানো হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, 'বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেওয়া ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানাতে পেরে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আনন্দিত।'
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, 'যে দেশটির সাথে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।'
'ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত', যোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ঢাকায় নিযুক্ত ১৮তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। পিটার হাস ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেন। পিটার হাসের পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য ছিল। এ সময়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের রুটিন দায়িত্ব পালন করেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাঙ্কের একজন সদস্য। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন।
ক্রিস্টেনসেন এর আগে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করেছেন। ওয়াশিংটনে তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি ফিলিপাইন, এল সালভাদর এবং ভিয়েতনামের মার্কিন মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে ফেলো হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
শিক্ষাজীবনে তিনি ২০২২ সালে ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ডিস্টিংগুইশড গ্র্যাজুয়েট হিসেবে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বহুভাষী ক্রিস্টেনসেন স্প্যানিশ, জার্মান, ফ্রেঞ্চ এবং ভিয়েলতমিজ ভাষায় কথা বলতে পারেন।