লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে এক সশস্ত্র হামলায় তিনি প্রাণ হারান।
পারিবারিক সূত্র এবং সাইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান জানান, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ জিনতানে তার নিজ বাসভবনে চারজন মুখোশধারী বন্দুকধারী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসভবনে প্রবেশের আগে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দেয়। এরপর ভেতরে ঢুকে তারা সরাসরি গুলি চালালে সাইফ আল-ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০১১ সালে তার বাবার পতনের পর তিনি বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন এবং দীর্ঘ সময় জিনতানে বন্দী ছিলেন। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন, যা লিবিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লিবিয়ার অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কারা বা কোন গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লিবিয়ার অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘৪৪৪ কমব্যাট ব্রিগেড’ এই হামলায় তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া যে গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সাইফ আল-ইসলামের এই মৃত্যু সেই সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।