রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লাগাম ছিঁড়লো

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ এর বর্ধিত মেয়াদও বৃহস্পতিবার শেষ হলো। ২০১১ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তখন এর মেয়াদ ছিল ১০ বছর; পরে তা আরও পাঁচ বছর বাড়ে।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বজায় রাখা হোক। তবে রাশিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পুরোনো চুক্তি বাড়ানোর বদলে নতুন, আধুনিক ও উন্নত একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করা উচিত বলে মত দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন কথা লিখেছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, নিউ স্টার্টের মতো পুরোনো চুক্তি বাড়ানোর পরিবর্তে মার্কিন পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক চুক্তি প্রণয়ন করা উচিত। তিনি নিউ স্টার্টকে ‘খারাপভাবে আলোচিত’ এবং ‘গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত’ একটি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক তুমুল অস্থিতিশীলতার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নতুন কোনও সমঝোতায় না পৌঁছানোয় বিশ্বজুড়েই ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
২০১১ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি বা নিউ স্টার্ট চুক্তি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে সীমাবদ্ধ করেছিল। এতে দেশ দুটির স্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ ও এ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও ছিল।
বৃহস্পতিবার চুক্তিটি শেষ হওয়ায় ১৯৮০-র স্নায়ুযুদ্ধের দশকের পর এবারই প্রথম মস্কো ও ওয়াশিংটন লাগামহীনভাবে তাদের স্ট্র্যাটেজিক পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার বিস্তৃত করার সুযোগ পেল, বলে মন্তব্য করেছে এনডিটিভি।
এমন এক সময়ে এই চুক্তি শেষ হল যখন ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এদিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও মিত্রদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। একই সুরে রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ওয়াশিংটন গঠনমূলক সাড়া দিলে রাশিয়াও সংলাপে আগ্রহী।
আবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় উভয় দেশই এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে স্বাধীন। তবে তারা কূটনীতির পথও খোলা রাখছে।
জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে চুক্তি পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউ স্টার্ট শুধু অস্ত্রের সংখ্যায় সীমা দেয়নি, বরং পরিদর্শন ব্যবস্থার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করেছিল। কোনও নতুন চুক্তি না হলে ভুল বোঝাবুঝি ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়বে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন মোতায়েন করতে পারে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে চুক্তিটি একবারই বাড়ানোর সুযোগ ছিল, যা ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পুতিন পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়ে ছিলেন।
চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন চুক্তির কথা বললেও বেইজিং এই বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়নি। চীনের হাতে আনুমানিক ৬০০টি ওয়ারহেড রয়েছে।

















