কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়ার তামান বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় বন্দরের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানান, বন্দরের ভলনা গ্রাম সংলগ্ন অংশে ড্রোনগুলো আঘাত হানে। এতে একটি তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, গুদামঘর এবং বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ১০০ জনেরও বেশি দমকল কর্মী কাজ করছেন। হামলায় অন্তত দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তামান বন্দর ছাড়াও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে পর্যটন শহর সোচি এবং আনাপা শহরের কাছে ইউরোভকা গ্রামে। তবে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মূলত তামান বন্দরটি রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; রয়টার্সের তথ্যমতে, গত বছর এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৪.১৬ মিলিয়ন টন তেলজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। তেল ছাড়াও শস্য ও কয়লা পরিবহনের জন্য এটি অন্যতম প্রধান রুট।
সাম্প্রতিক এই হামলা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর একটি অলিখিত সমঝোতা থাকলেও, তার মেয়াদ শেষ হতেই ইউক্রেন আবারও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে।
বিশেষ করে তীব্র শীতের মধ্যে রাশিয়ার হামলার কারণে ইউক্রেনের বিশাল এক জনগোষ্ঠী বর্তমানে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।