রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে গভীর রাতে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে স্বপন বেপারি (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাস্থলে রক্তের আলামত পাওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মৃত অথবা আহত অবস্থায় তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুরো চরাঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার গভীর রাতে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ স্বপন বেপারি ওই গ্রামের সিদ্দিক বেপারির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র দল দুটি ট্রলারযোগে পদ্মার চর এলাকার কালিদাসখালী গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে টর্চলাইটের আলো ফেলেন স্বপন বেপারি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা স্বপনকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ ও স্বপনের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী জিয়াউল হক এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। পরে ঘটনাস্থলে এসে স্বপনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারি বলেন, “ঘটনাস্থলে রক্তের আলামত পাওয়া গেছে। আমরা ধারণা করছি, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমার ছেলেকে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে গেছে।” চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মার চরে বালুর ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা দেখা যায়। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আগেও এখানে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই চর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “রাতের বেলা হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে বাইরে এসে আমরা শুধু রক্ত দেখতে পাই।” চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, “দুষ্কৃতকারীদের দাপটে চরাঞ্চলের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। আবারও গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”
পুলিশ জানায়, কিছুদিন আগে স্বপন একটি মাদক মামলায় জামিনে কারামুক্ত হন। বাড়ির পাশে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, স্বপন মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এটি মাদক নাকি চরের আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত জেরে ঘটেছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ।
নৌ-পুলিশের চারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর মঙ্গলবার বিকেলে জানান, চরাঞ্চলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ স্বপনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গুলির ঘটনার পর থেকে স্বপন বেপারি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে রক্তের আলামত পাওয়া গেছে। স্বপনকে উদ্ধারে থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিখোঁজ স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
চারঘাট সার্কেলের এএসপি খালেদ হুসাইন জানান, মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।