রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতার শপিংমল দখল

রাজশাহী মহানগরীতে একটি বহুতল অভিজাত শপিংমল দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর এই শপিংমল দখলের পেছনে একাধিক স্থানীয় বিএনপি নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শপিংমলের মালিক পক্ষ।
নগরীর ষষ্ঠিতলায় অবস্থিত ১০ তলা ভবনের ৭ তলা পর্যন্ত শপিংমলটির নাম থিম ওমর প্লাজা। বাকি তিন তলা আবাসিক ফ্ল্যাট। মার্কেটে ১২২ টির ওপরে দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর এই শপিংমলে হামলা হয়। পরবর্তীতে মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী গা ঢাকা দিলে সেখানকার সাবেক কয়েক কর্মচারী ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ আদায় শুরু করে। তারা দাবি করে, এই মার্কেট লিজ দেয়া হয়েছে। তার পক্ষ থেকে এখন তাদের কাছেই ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুর লোক পরিচয় দিয়ে প্রায়ই একদল লোক এসে দোকানদারদের সতর্ক করে দিয়ে যাচ্ছে, যাতে কেউ তাদের অবাধ্য না হয়।
থিম রিয়েল এস্টেটের পক্ষে অভিযোগকারী মো. রাকিব আলী গত ৬ জানুয়ারি নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি বরাবর অনলাইনে করা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, চলতি বছরের গত ৫ জানুয়ারি আনুমানিক দুপুর ১২ টার সময় রাজশাহী নগরীর কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আউয়াল, সুমন ও অন্যান্য সন্ত্রাসীরা মিলে থিম ওমর প্লাজায় দেশি-বিদেশী অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থিম রিয়েল এস্টেট লি: এর অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, চড়-থাপ্পর মেরে অফিস দখল করে তাদের বের করে দেয়। সেই সাথে অফিসের সমস্ত নথিপত্র, ব্যাংক চেক, সকল চাবি ও লকারের চাবি নিয়ে নেয় এবং তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অফিসের লকারে মাসিক ভাড়া ও ইউটিলিটি বিলের আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিল, যা তারা অবৈধভাবে নিয়ে নিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দতারা থিম রিয়েল এস্টেট লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীর স্বাক্ষর নকল করে দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়াদের চিঠি দিয়েছে যে, এখন থেকে সকল ভাড়া ও বিল নগদে তাদেরকে পৌঁছে দিতে হবে, অন্যথায় দোকান দখল করে নেওয়া হবে। তারা এলাকায় প্রচার করছে যে থিম ওমর প্লাজার সকল মালিকানা ও দায়-দায়িত্ব এখন তাদের। তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আবাসিক অংশের মালিক ও বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর এরকম অস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, নাজিফা হক চৌধুরী আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরীর কন্যা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. আওয়াল দাবি করেন, থিম ওমর প্লাজা মার্কেটটি ফারুক চৌধুরী সাহেব জাকিরুল ইসলাম সাহেবকে ৫ বা ১০ বছরের জন্য লীজে দিয়েছেন ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর। সেই হিসেবে জাকিরুল সাহেব মার্কেটের ভাড়া ও সার্ভিসচার্জ উত্তোলন করছেন। আমাদের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।
বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলু দাবি করেন, এই শপিংমলের সঙ্গে তার কোনো লেনদেন নেই।
এই বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম দাবি করেন, মার্কেট দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মার্কেট লিজ দেয়ার ঘটনাই সঠিক। যদিও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ না পেয়েই কীভাবে তিনি লিজের বিষয়টিকে সত্য বলে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেব, জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অভিযোগকারী মো. রাকিব আলী অভিযোগ করে বলেন, ওসি যা বলছেন তা মিথ্যা। যে সব কাগজপত্রের কথা বলা হচ্ছে তা জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব নিয়ে মার্কেটে যারা ব্যবসা করছেন তারাও অবগত এবং ভয়ে আছেন।


















