দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান কুড়িয়েছেন তিনি। এবার তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হলো রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’। তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। গত বৃহস্পতিবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি, ক্যারিয়ারের আক্ষেপ এবং বর্তমান সময়ের শিল্পীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
একুশে পদকে মনোনীত হওয়ার খবরটি ববিতার কাছে ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। তিনি জানান, একুশের চেতনা তাঁর প্রাণে মিশে আছে। এই অর্জনকে তিনি কোনো ব্যক্তি বিশেষের নয়, বরং তাঁর অগণিত ভক্ত ও দর্শকদের ভালোবাসা হিসেবে দেখছেন। কৃতজ্ঞতাভরে তিনি এই সম্মাননা উৎসর্গ করেছেন তাঁর চলচ্চিত্রের গুরু এবং আবিস্কারক প্রয়াত জহির রায়হানকে।
সাক্ষাৎকারে ববিতা সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে ছিলেন শিল্পীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক শিল্পীর রাজনৈতিক পতনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "শিল্পী যখন রাজনীতিতে জড়ান, তখন তাঁর অর্জন শূন্য হয়ে যায়। আমি দেখেছি রাজনীতিতে জড়ানোর কারণে জনগণ শিল্পীদের তালির বদলে গালি দিয়েছে। আমি কেন জনগণের গালি খেতে যাব?"
তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতিকদের ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী এবং দলভিত্তিক, কিন্তু একজন প্রকৃত শিল্পীর ক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চিরস্থায়ী। রিয়াজ বা ফেরদৌসের মতো সমসাময়িক শিল্পীদের রাজনীতিতে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি 'ভুল' হিসেবেই দেখছেন।
প্রায় পৌনে তিনশ ছবিতে অভিনয় করা ববিতা বর্তমানে পর্দা থেকে দূরে। কারণ হিসেবে তিনি জানান মানসম্মত গল্পের অভাব। তাঁর মতে বর্তমানে বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীদের জন্য শুধু 'মা-খালা'র মতো গতানুগতিক চরিত্র রাখা হয়, যা তাঁর পছন্দ নয়। নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে শিল্পের ক্ষুধার চেয়ে অর্থের মোহ বেশি। এমনকি গ্রামীণ চরিত্রে কন্টাক্ট লেন্স পরে অভিনয় করার মতো অবাস্তব বিষয়ও তাঁর চোখে পড়েছে। সুভাষ দত্ত বা আমজাদ হোসেনের মতো এখন আর নারীকেন্দ্রিক শক্তিশালী গল্পের সিনেমা তৈরি হচ্ছে না।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ক্যামেরার সামনে অন্য মানুষ হয়ে বেঁচে থাকলেও, ব্যক্তি জীবনে অনেক সাধারণ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আক্ষেপ করেন ববিতা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুটিংয়ের চাপে সাধারণ মানুষের মতো ঘুরে বেড়ানো বা কেনাকাটা করার সুযোগ পাননি তিনি। নিজের কোনো বায়োপিক বা জীবননির্ভর সিনেমা হলে সেখানে নিজের অভিনয় জীবনের দিকগুলোই ফুটে উঠুক—এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা।