চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামে বিয়েবাড়িতে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দফায় দফায় হামলা ও প্রভাবশালী মহলের হুমকির মুখে বর্তমানে কনের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হামলাকারীদের ভয়ে কনের বৃদ্ধ নানা-নানি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ মার্চ মকরমপুর গ্রামের আশিকুল ইসলামের বাড়িতে তার নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। আনন্দ আয়োজনের অংশ হিসেবে সেখানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হচ্ছিল। গ্রাম্য মোড়ল শরিফুল ইসলামের নির্দেশে কয়েকজন এসে এতে আপত্তি জানালে কনেপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গান বন্ধ করে দেয় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চায়। ভুক্তভোগীদের ধারণা ছিল, বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে গেছে।
মসজিদে ডেকে মারধর কিন্তু ঘটনার রেশ কাটেনি। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোড়ল শরিফুল ইসলাম লোকজনকে উসকে দিয়ে বাইতুস সালাম জামে মসজিদের ভেতরেই কনেপক্ষের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। কনের বাবা আবুল কালাম আজাদের দাবি, তাকেসহ তার আত্মীয় মুসলিম, আহাদ, শরিফ, আসগর ও দুরুলকে মসজিদের ভেতর বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। কনের নানা আশিকুল ইসলাম কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান।
নিরাপত্তাহীনতায় ভিটেমাটি ছাড়া পরিবার শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে গোমস্তাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কনের খালা তানিয়া আক্তার বলেন, “হামলাকারীরা হুমকি দিচ্ছে যেখানে পাবে সেখানেই মারবে। আমার বৃদ্ধ বাবা-মা এখন ভয়ের চোটে বাড়ির বাইরে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” বর্তমানে ওই পরিবারটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না এবং জীবনের সংশয়ে দিন কাটাচ্ছে।
মোড়ল ও পুলিশের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রাম্য মোড়ল শরিফুল ইসলাম মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “কোনো মারধর হয়নি, শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমাদের গ্রামে গত দুই বছর ধরে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ। তারা সেই নিয়ম অমান্য করেছে।”
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগকারী জানিয়েছেন যে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সালিশে সমাধান না হলে পুলিশ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বর্তমানে মকরমপুর গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। একটি আনন্দ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন অমানবিক ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।