যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের মানুষ

ইরানের আকাশে-বাতাসে এখন বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের গুঞ্জন। গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে পুরো দেশজুড়ে এক ভয়াবহ হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবরে সাধারণ মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নির্ঘুম রাত ও চাপা উত্তেজনা রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তারা প্রতি মুহূর্তে কোনো বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার অপেক্ষায় আছেন। ৪৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী মিলাদ বলেন, “আমি হামলার অপেক্ষায় ছিলাম। ভোর না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। বারবার জেগে উঠছিলাম আর কান খাড়া করে রাখছিলাম।” শুধু তেহরান নয়, ইরানের প্রতিটি শহরেই এখন এই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জরুরি রসদ মজুতের হিড়িক হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ কয়েক দিনের খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করতে শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বোমা হামলা থেকে বাঁচার নানা কৌশল ও প্রাথমিক চিকিৎসার পরামর্শ শেয়ার করা হচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের জানালার কাচ সিল করে দিচ্ছেন যাতে বিস্ফোরণের তীব্রতায় কাচ ভেঙে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
মানবিক সংকট ও উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পর এই যুদ্ধের হুমকি ইরানিদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সরকারি ও বিরোধী—উভয় মতাদর্শের মানুষই এখন প্রাণভয়ে আতঙ্কিত। আমিন নামের এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “যুদ্ধ আমাদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার সবই ধ্বংস করে দেবে।”
বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় দেশের ভেতরে থাকা মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী ইরানি তাদের স্বজনদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধ শুরু হলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগের বিকল্প পথ খুঁজছেন। যদিও শহরের রাস্তাঘাট আপাতত শান্ত মনে হচ্ছে, কিন্তু এই শান্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও অজানা শঙ্কা।


















