ন্যাটো নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিনিয়োগ যেতে নারাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সাথে তর্কে জড়ান ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অসন্তুষ্টি আর প্রেস ব্রিফিং জুড়েই এই যুদ্ধে বাইডেন প্রশাসন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনায় বিস্মিত সারাবিশ্ব।
ট্রাম্পের আচরণে একটা বিষয় পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ফ্রিডম অফ স্পিচ, ফ্রিডম অফ চয়েজ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের যে মতাদর্শ প্রচার করে আসছে, তার তোয়াক্কা করেনা বর্তমান প্রশাসন।
ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীর অনাগ্রহ আঁচ করতে পেরে নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। বেড়েছে নিজেদের মধ্যে আলোচনা, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে নতুন পরিকল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে-বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া কী হতে পারে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ।
রাশিয়া টানা তিন বছর ধরে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতায় রাশান সেনাবাহিনী প্রতিনিয়তই শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে চড়ে থাকার প্রবণতা ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মূলত করেছে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন এবং সম্প্রতি মিডিয়ায় ট্রাম্পের ন্যাটোবিরোধী মন্তব্যে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইউক্রেনে ৭ লাখ সৈন্যের উপস্থিতি, ২০২২ সালের তুলনায় ২২০ শতাংশ ট্যাঙ্ক উৎপাদন বৃদ্ধি (১,৫৫০টি), ৫০ শতাংশ সাঁজোয়া যান বৃদ্ধি (৫,৭০০টি), এবং ৪৩৫ শতাংশ দূরপাল্লার লোটারিং যুদ্ধাস্ত্র বৃদ্ধি (১,৮০০টি) রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। ইরান থেকে ড্রোন ধার করার বদলে নিজেরা ড্রোন উৎপাদন করছে দেশটি।
চলতি অর্থ বছরে রাশিয়ার সামরিক বাজেট ১৪৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যা তাদের জিডিপির ৬.৭ শতাংশ, এবং গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। ক্রয় সক্ষমতার হিসেবে এই বাজেট ৪৬১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার যা প্রথমবারের মতো সমগ্র ইউরোপের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ২০২২ সাল থেকে ১১৪ বিলিয়ন ইউরো সামরিক, আর্থিক এবং মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও ইউরোপে ১ লাখ মার্কিন সৈন্য মোতায়েন করেছে দেশটি। জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড এবং স্পেনে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি ওয়ারহেড ইতালি, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং জার্মানিতে মোতায়েন আছে।