ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অনুরোধে তিনি ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, স্থগিত করা এই হামলাটি সফল হলে তা হতো ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা।’ আলোচনা এবং চুক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান। চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেনি।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধটি বর্তমানে ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। জুনে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশই পুনরায় পাল্টাপাল্টি বড় ধরনের হামলা শুরু করে।
গত সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীর হামলার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়, যার জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানে পাল্টা হামলা চালায়।
নতুন করে এই আলোচনা শুরুর খবরটি আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৭.৩% কমে ব্যারেল প্রতি ৮১.৫৫ ডলারে নেমে আসে।
ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন একটি বাণিজ্যিক শিপিং রুট চালুর বিষয়েও পৃথক আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।