মহাতারকা লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল দল নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সমাপ্তির পর, এই প্রথম আলবিসেলেস্তেরা মাঠে নামতে প্রস্তুত। আসন্ন আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোকে সামনে রেখে ঘরের মাঠে বড় ধরনের প্রস্তুতির রূপরেখা সাজিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
এএফএ- এর সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা দল দেশের মাটিতেই দুই থেকে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য বুয়েনস আইরেস, কর্ডোবা এবং রোজারিও শহরকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ও বুয়েনস আইরেসের আইকনিক স্টেডিয়াম এল মনুমেন্টাল এবং লা বোমবনেরা-কে মূল ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে আর্জেন্টিনার এই উইন্ডোর কয়েকটি ম্যাচ চীনে খেলার কথা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরের ঘোষণার পর বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় আয়োজকদের সাথে চুক্তি বাতিল করে ঘরের মাঠেই খেলার সিদ্ধান্ত নেয় এএফএ।
সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোর জন্য আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষের নাম এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে এএফএ সূত্রে জানা গেছে, লাতিন আমেরিকার বাইরে ইউরোপ কিংবা আফ্রিকার শক্তিশালী দুটি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
অধিনায়ক মেসির বিদায়ের পাশাপাশি কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি থাকায় এই ক্রান্তিকালে দল পুনর্গঠনের মূল দায়িত্ব তারই কাঁধে থাকছে। আসন্ন ম্যাচগুলোর পরিকল্পনা করতে স্পেনে থাকা স্কালোনি দ্রুতই বুয়েনস আইরেসে পৌঁছাবেন। পরবর্তী ২০২৮ কোপা আমেরিকা ও ২০৩০ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে স্কালোনি একটি তরুণ ও প্রতিভাবান কোর-স্কোয়াড সাজাচ্ছেন।
দুই দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবার ১০ নম্বর জার্সির জাদুকরকে ছাড়া বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার এই নতুন শুরু ভক্তদের মনে যেমন আবেগের জন্ম দিচ্ছে, তেমন স্কালোনির দলের জন্য এটি হতে যাচ্ছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।