মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত চেয়ে সিইসিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চিঠি

ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী ফলাফলে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আসনটিতে বিএনপি মনোনীত জয়ী প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী আজ রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের কাছে এই আবেদন জমা দেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে আবেদনটি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। আবেদনে ঢাকা-৮ আসনের ১২টি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া ১১ দফার অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সিইসি বরাবর দেওয়া চিঠিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস, তাঁর কর্মী-সমর্থক এবং পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং ফলাফল আটকে রাখার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি বাতিল হওয়া ভোটগুলোকে জোরপূর্বক ধানের শীষের অনুকূলে গণনাভুক্ত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
পাটওয়ারী তাঁর আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা সরাসরি নির্বাচনী অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ভোট কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে (পাটওয়ারী) বিজয়ী ঘোষণা না করে অন্যায়ভাবে মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন:
১. নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোসহ ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনরায় গণনা করা।
৩. পুনর্গণনা ও চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে ভোটের দিন থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে শাপলা কলি প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের অভিযোগ করে আসছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এখন নির্বাচন কমিশন এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।

















