সময়ের জনমাধ্যম

মায়ামিতে বার্সার সাবেকদের পুনর্মিলনীতে আলবা

লিওনেল মেসির ঘোষণার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিলো আরো বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে এই মৌসুমেই দলে টানবে মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামি। সেই সাথে এবারের মৌসুমে মেসিকে কেন্দ্র করেই মাঠের কৌশল সাজাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটি, সেটি তো একরকম নিশ্চিতই ছিলো। মেসির সাবেক গুরু জেরার্দো টাটা মার্তিনোকে কোচের দ্বায়িত্ব দেয়ার পর সে সম্ভাবনার পালে হাওয়া লাগে। তার কিছুদিন পরই আরেক সাবেক বার্সা ফুটবলার সের্হিও বুসকেতসের সাথে চুক্তির ঘোষণা দেয় মায়ামি। এরপর জর্দি আলবাকে দলে ভিড়িয়ে ফ্লোরিডাভিত্তিক ক্লাবটি সেখানে বার্সার ছোটখাট একটি পুনর্মিলনই ঘটিয়ে ফেলেছে। মেসি-বুসকেতসের আগেই অভিষেক হলেও, অরোল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে যাত্রা শুরু হলো আলবারও।

তবে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেয়ার পথটা একদম সরল ছিলো না জর্দি আলবার জন্য। গত মৌসুম শেষে বার্সার সাথে চুক্তির মেয়াদ ফুরানোর পর মুক্ত খেলোয়াড় হয়ে যান আলবা। এরপরই তার কাছে সৌদি আরব থেকে বড় অঙ্কের প্রস্তাব আসে। তবে সে প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে ইন্টার মায়ামিকে বেছে নেন এই স্প্যানিশ লেফট ব্যাক। যুক্তরাষ্ট্রে আসার সিদ্ধান্তের পেছনের এসব কথা সংবাদমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছেন আলবা। বলেন, ‘আরও বড় অঙ্কের প্রস্তাব ছিল, তবে আমার কাছে প্রাধান্য ছিল নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা। আমার মনে হয়, আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্লাবই আমাকে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করছে।’

সেই সাথে টাকার চেয়ে এসব সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান আলবা। দলটিতে সাবেক সতীর্থদের সাথে পুনর্মিলনীতেও রোমাঞ্চ পাচ্ছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘লিও আর বুসকেতসের সঙ্গে পুনর্মিলনীতে খুবই খুশি। শুধু আমরা তিনজন নই, এই দলে অনেক ফুটবলারই ভালো, যারা আমাদের সব ম্যাচ জিততে সাহায্য করবে। আমরা টাটাকে চিনি, তারও আমাদের সম্পর্কে ধারণা আছে। এই প্রকল্পও আমার চেনা। এ কারণেই আমি এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মায়ামিতে যোগ দেয়ার আগে ১১ বছর বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন আলবা। এর মধ্যে লিওনেল মেসির সাথে ৯ মৌসুম খেললেও, পুরোটা সময়ই বুসকেতসকে পেয়েছেন এই লেফট ব্যাক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার জার্সিতে খেলেছেন ৬০৫টি ম্যাচ। রক্ষণ সামলালেও আক্রমণ তৈরিতে সমান পারদর্শী আলবা। এবার নতুন দেশে, নতুন লিগে পুরনো সতীর্থদের রসায়ন কতটা জমে সেটি দেখতে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে হাজারো ফুটবল প্রেমীরা।

Comments are closed.