মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে এক বিশাল যৌথ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ২৭০ জন অভিবাসী কর্মীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত দেশটির ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ‘অপস মেগা’ নামক বিশেষ এই অভিযানের আওতায় মেরু ও তেলোক গং এলাকার দুটি কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে কর্মরত মোট ৫৮৬ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এই ২৭০ জনকে আটক করা হয়।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের মধ্যে মোট বাংলাদেশির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, ২৪ জুন সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম ধাপে মেরুর একটি প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিককে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করা হয়।
পরবর্তী ধাপে তেলোক গংয়ের একটি আসবাবপত্র (ফার্নিচার) কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫২০ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চলাকালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই কারখানার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ও দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তেলোক গংয়ের কারখানায় গ্রেফতার এড়াতে এক বাংলাদেশি শ্রমিক একটি রোরো (রোল-অন/রোল-অফ) বর্জ্যবাহী কনটেইনারের ভেতরে ময়লার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তবে নিবিড় তল্লাশির একপর্যায়ে তাকে খুঁজে বের করা হয়। এছাড়া কয়েকজন শ্রমিক কাঠ কাটার মেশিন ও বড় বড় বাক্সের পেছনে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা পাননি।
মোহদ খুসাইরি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাসের অপব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। কিছু ব্যক্তি বৈধ পাস থাকার দাবি করলেও অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকপক্ষ বা নিয়োগদাতাদের অবশ্যই শ্রমিকদের বৈধতা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (পিএলকেএস) অনুমোদিত খাত ও নির্ধারিত কর্মস্থলেই ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিয়োগকর্তার।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।