মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকার গঠন করা দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই-তিনদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।‘
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ হয় পরদিন। সে হিসেবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই অধিবেশনে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশসমূহ এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।”
ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে প্রধানমন্ত্রী করে বিএনপির নতুন সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তবে বিএনপি এখনো স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচন করেনি।
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। উপনেতা হয়েছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত হয়েছেন মো. নাহিদ ইসলাম।
গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশেতেহারেও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
কার সভাপতিত্বে শুরু হবে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন?
সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। তার আগে ভাষণটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। প্রথম অধিবেশনজুড়ে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করেন। তবে এবার প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এর আগে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হন। তাদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন।
কার্যপ্রণালী বিধিতে সদস্যদের শপথ বিষয়ে বলা হয়েছে, “(১) সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত সংসদ-সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফরমে বিদায়ী স্পীকারের এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পীকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পীকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে এবং স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার উভয় পদ শূন্য থাকিলে স্পীকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করিবার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন বা ঘোষণা করিবেন এবং উহাতে স্বাক্ষর করিবেন।”
১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দল আলোচনা করে জ্যেষ্ঠ একজন সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। এবারও তেমন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল ঘোষণা হয়নি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং তাদের মিত্ররা তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।