যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির জবাবে এবার কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা। ওয়াশিংটনের নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৯.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে অটোয়া। এর ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
গতকাল মঙ্গলবার কানাডা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শত শত মার্কিন পণ্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কানাডা সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে তারা ‘ডলারের বদলে ডলার’ নীতিতে এই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন শুল্ক নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। পণ্যভেদে এই শুল্কের হার ১৫%, ২৫% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
কানাডার এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০০-এর বেশি পণ্য শুল্কের আওতায় পড়বে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্, কৃষিশিল্পের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, পোশাক এবং ইলেকট্রনিক্স খাত।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে মার্কিন রপ্তানিকারকরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বেন।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন কানাডীয় দুগ্ধজাত পণ্য, মদ ও কাঠের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা সিদ্ধান্তের জবাবেই কানাডা সরকার এই বিশাল অঙ্কের পাল্টা শুল্কের প্যাকেজ ঘোষণা করলো।
এদিকে, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এবং ব্যবসায়ীদের ওপর যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য কানাডা সরকার নিজেদের উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের জন্য ৭.৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে। এই বাণিজ্য উত্তেজনা উত্তর আমেরিকার সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।