জুমার নামাজ শেষে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে মামলা গ্রহণ না করার প্রতিবাদে ঝিনাইদহ সদর থানার সামনে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৭টা থেকে স্থানীয় জনসাধারণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, জুমার নামাজ শেষে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ওই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যান। কিন্তু পুলিশ তাঁর অভিযোগ বা মামলা গ্রহণ করেনি।
আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, থানায় মামলা জমা দেওয়া হলেও পুলিশ নানা অজুহাতে তা রেকর্ড করছে না। এমনকি একপর্যায়ে থানার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত থানার সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, থানাকে কোনো দলীয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে নাগরিকের আস্থা ও ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। একই সাথে দলদাসত্বের সংস্কৃতি পরিত্যাগ করে দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রীর নিজ এলাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রীর নিজস্ব এলাকাতেই যদি আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকে, তবে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন স্থানীয় পর্যায় থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
থানার সামনে অবস্থানকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুলিশ প্রশাসন ও থানাগুলোর আমূল সংস্কারের দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলীয় প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কখনোই সম্ভব হবে না। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানা প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীদের অবস্থান ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।