কুষ্টিয়ার মিরপুরে আটক এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় এসে পুলিশের হাতে আটক হওয়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে মিরপুর থানা থেকে তারা মুক্তি পান। এর আগে শনিবার রাতে থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ালে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
আটক ও পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের স্থানীয় ইউপি মেম্বার এনামুল হক (৪৫), সুজন আলী (৩৩), আলাউদ্দিন (৪৩), শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং সাইদুল ইসলাম (৩৯)। তারা স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমলা ক্যাম্প পুলিশের একটি দল নওদা আজমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৮ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। রবিউলকে মিরপুর থানায় নিয়ে আসার পর ওই পাঁচ নেতা সেখানে উপস্থিত হন। তারা আটক রবিউলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে এসে তারা পুলিশের কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না জানানোর পরও তারা বারবার অনুরোধ ও চাপ দিচ্ছিলেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের হেফাজতে রাখা হয়।”
ওসি আরও জানান, রবিবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তাদের সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে মাদকের স্বপক্ষে আর কোনোদিন তদবির করবেন না— এই মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় এ ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।