কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে দেশে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়াবহ মাদক প্রবেশ ঠেকাতে এবার প্রশিক্ষিত কুকুর (কে-৯ স্কোয়াড) নামানোর পরিকল্পনা করছে পুলিশ। এরই মধ্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও মেরিন ড্রাইভে এই ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কুকুর না কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ যেসব ইউনিটে মাদক শনাক্তে পারদর্শী কুকুর রয়েছে, সেখান থেকে বাছাই করে কক্সবাজারের জন্য এই বিশেষ স্কোয়াড গড়ে তোলা হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে বের হওয়ার পথে সড়কের পাশে বিশেষ ‘বাস-বে’ বা পার্কিং ব্যবস্থা করে কুকুরের মাধ্যমে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হবে। বর্তমানে বিজিবি ও র্যাব সেখানে কুকুরের মাধ্যমে আংশিক অভিযান চালালেও পুলিশ এবার পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড নামাতে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে গঠিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সর্বশেষ সভায় মাদক কারবারিদের ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানো এবং তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া, কক্সবাজারকেন্দ্রিক প্রায় ৩০০ জন শীর্ষ মাদক কারবারির একটি নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাদের গ্রেফতারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় কারবারিদের অবৈধ সম্পদের খোঁজ নিয়ে মানিলন্ডারিং আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমারকেন্দ্রিক সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির সদস্যরা এই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। অনেক সময় বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাঠানো সিমেন্ট ও খাদ্যসামগ্রীর বিনিময়ে কিংবা হুন্ডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই মাদকের অর্থ পরিশোধ করা হয়। ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিনের চেয়ে প্রশিক্ষিত কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মাদক শনাক্তে বেশি কার্যকর হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এই পদ্ধতির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানান, মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করার কাজ নতুনভাবে শুরু হয়েছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ইতিমধ্যে স্ক্যানার বসানো হলেও ডগ স্কোয়াড যুক্ত হলে মাদক পাচার রোধে বড় ধরনের সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।