সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারিচালিত বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনতে যাচ্ছে চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চ্যাংগান। ‘নেভো এ০৬’ ব্যাটারিযুক্ত বৈদ্যুতিক গাড়িটি এ বছরের মাঝামাঝি বাজারে আসতে পারে।
সিএটিএলের তৈরি সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারিটি প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতে পারে, ফলে বরফের মধ্যেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হবে না। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চল প্রচণ্ড ঠান্ডার জন্য পরিচিত। শীতের সময় সেখানকার তাপমাত্রা প্রায়ই বৈদ্যুতিক গাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্ষম সীমার নিচে নেমে যায়। আর তাই অঞ্চলটিতে সম্প্রতি সোডিয়াম আয়নযুক্ত ব্যাটারির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে মূল সক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি ধরে রাখতে পেরেছে ব্যাটারিটি। প্রচলিত লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারির ক্ষেত্রে এত কম তাপমাত্রায় এমন কর্মক্ষমতা ধরে রাখা সাধারণত কঠিন। সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারিযুক্ত গাড়ি একবার চার্জে প্রায় ২৫০ মাইল চলতে পারে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গিজমোচায়নার প্রতিবেদন বলছে, মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি নির্বিঘ্নে চার্জ করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় গাড়িটি চলেছে।
চ্যাংগানের দাবি, প্রচণ্ড শীতে সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারির তুলনায় স্থিতিশীলভাবে বেশি শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উৎপাদন বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে ‘ডুয়াল কেমিস্ট্রি’ প্রযুক্তির নতুন ধাপ শুরু করেছে। ব্যবহার ও পরিবেশ অনুযায়ী নির্মাতারা ভবিষ্যতে ভিন্ন ধরনের ব্যাটারি প্রযুক্তি বেছে নিতে পারবেন। বিশেষ করে শীতপ্রধান অঞ্চলে চলাচলকারী গাড়ির ক্ষেত্রে সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারির আরেকটি বড় সুবিধা হলো কাঁচামালের সহজলভ্যতা। বিশ্বজুড়ে লিথিয়ামের তুলনায় সোডিয়াম প্রায় এক হাজার গুণ বেশি পাওয়া যায়। ফলে কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে হয় না। এ ছাড়া সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হলে সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।