কুচকুচে কালো রঙ, বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাব। গলায় মোটা চেইন, শরীরে চকচকে ভাব। কাছে গেলেই মাথা নেড়ে যেন আদর নিতে চায়। সামনেই ঝোলানো ‘কমিশনার’ লেখা প্ল্যাকার্ড। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ময়মনসিংহের পশুর হাটে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে ৯০০ কেজি (২২ মণ) ওজনের এই শাহিওয়াল-ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের ষাঁড়টি।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে জয়নুল পার্কের বাইরে বসা সার্কিট হাউজের পশুর হাটে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বিশাল আকৃতির এই কালো ষাঁড়টিকে দেখতে মানুষজন ভিড় করছেন, ছবি তুলছেন। ছোট ছোট শিশুরা পরম আদরে এর মাথায়-গলায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
ষাঁড়টির নামকরণ প্রসঙ্গে মালিক মো. জুয়েল বলেন, “ষাঁড়টি একটু অলস প্রকৃতির। খালি শুয়ে-বসে থাকে। খায় আর ঘুমায়, তাই শখ করে নাম রাখছি ‘কমিশনার’।” তিন বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করা এই ষাঁড়টি নিয়ে এখন বড় আশা খামারি জুয়েলের।
জুয়েলের খামার জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা এলাকায়। তাঁর খামারে আরও ১৫-২০টি গরু রয়েছে। সার্কিট হাউজের এই হাটে তিনি তিনটি ষাঁড় নিয়ে এসেছিলেন। ‘কমিশনার’ ছাড়াও ছিল ‘মটু’ এবং ‘চমচম’ নামের দুটি ষাঁড়। মটু ও চমচম ইতিমধ্যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে বিক্রি হয়ে গেছে। খামারি জুয়েল এখন কমিশনারের দাম চাচ্ছেন ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি জানান, হাটে এর দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, তবে ৬ লাখ টাকার কাছাকাছি হলে তিনি এটি বিক্রি করে দেবেন।
ময়মনসিংহ জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবার জেলায় মোট ১৫২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সার্কিট হাউজের এই হাটটি ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ১৪৮টি। বিপরীতে জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। ফলে চাহিদার তুলনায় জেলায় ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৭টি। এছাড়া ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬৬টি ছাগল, ৫ হাজার ৩৪৪টি ভেড়া এবং ৮৮৬টি মহিষ প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, “ঈদকে ঘিরে সুস্থ পশু কেনাবেচা নিশ্চিত করা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের মাঠপর্যায়ের সহকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পুরো জেলার হাটগুলোর জন্য ৫৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”