সদ্য অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সাথে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেনের দায়িত্ব নিয়ে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও দুজনের মধ্যে বৈরী মনোভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকদের কর্ম বিরতি চলছিল। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার পাঠদান কর্মসূচিও বন্ধ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংকট নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ সরকারের শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার।

শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের রূপনগর শাখার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একাডেমিক ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে কামাল মজুমদার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেনকে দায়িত্ব প্রদানের মধ্যদিয়ে সংকটের সমাধান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কামাল মজুমদার বলেন, আগামীকাল থেকে পুরোদমে সকল শিক্ষকদের পাঠদান কর্মসূচি যথাযথ নিয়মে চলবে। কেউ যদি নতুন করে কোন ষড়যন্ত্র করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে প্রতিষ্ঠানের গর্ভনিং বডি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব একটি আইন আছে, আমাদেরও আছে। কোন কুচক্রী মহলের ইন্ধনে বাচ্চাদের পড়াশোনা ক্ষতি হবে এটা হতে দেয়া যায়না। কারণ ছাত্রছাত্রী থাকলে প্রতিষ্ঠান বাঁচাবে, শিক্ষকরা বাঁচবেন। যেখানে শতকরা ৮০% শিক্ষক তরুণ প্রজন্মের। যারা শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে একেকজন নিবেদিত প্রাণ।
তিনি আরও বলেন, অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে, নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হতে দিতে পারিনা। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব সমস্যা সমাধান করা।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা কোনও গুজবে কান দিবেন না। আজকের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তাদের বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করব না। আপনারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান গ্রহণ করবেন।
প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে সরকারি এক সংস্থার প্রতিবেদনে দুর্নীতির কথা এসেছে। এ বিষয়ে কামাল মজুমদার বলেন, যারা এই প্রতিবেদন করেছে, তারা বিভিন্ন স্কুল কলেজে থেকেই ঐখানে চেয়ার পেয়ে বসেছেন। হুট করে সঠিক তথ্য না জেনেই মন্তব্য এবং প্রতিবেদন করলেই তো হয়ে যাবেনা, তার দালিলিক প্রমাণ থাকতে হবে।
সবশেষে তিনি সরকারের কাছে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে সরকারিকরণের আকুল আবেদন জানান। পাঁচটি শাখা রয়েছে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। সর্বমোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার এবং শিক্ষক রয়েছে আট হাজার।
Comments are closed.