সময়ের জনমাধ্যম

মণিপুর নিয়ে মোদীর অবস্থান জানতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চান বিরোধীরা

ভারতের মণিপুর রাজ্য নিয়ে চলমান জটিলতা বেড়েই চলেছে। সহিংসতাকবলিত মণিপুর রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভারতের বিরোধী দলগুলোর নেতারা। সে লক্ষ্যে বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে মণিপুর নিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩১ জন বিরোধী নেতা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মণিপুর রাজ্যের পরিস্থিতি বুঝতে এবং তা স্বচক্ষে অনুধাবন করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেখানে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি সংসদে মূলতবি প্রস্তাব পাশ করে মণিপুর বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। সেখানকার সহিংসতা ও অরাজকতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের নিশ্চুপ অবস্থান বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলছে এবং সরকার পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব সচেতন করে তোলার জন্য রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগী হতে অনুরোধ করেন তাঁরা।

স্মারকলিপি দেয়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র পার্লামেন্ট সদস্যরাও। সম্পতি সহিংসতাকবলিত মণিপুর রাজ্য ঘুরে এসেছেন তারা। নিজেদের সে অভিজ্ঞতার কথা তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। প্রতিনিধিদলের মধ্যে আছেন তৃণমূল নেত্রী সুস্মিতা দেব, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো জৈষ্ঠ বিরোধী দলীয় নেতারা। এছাড়াও বিরোধী নেতাদের মধ্যে ইন্ডিয়া জোটের সব শরিক দলের সদস্যরাই ছিলেন।

এসময়, মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সক্রিয়তার দাবি জানান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, সংসদকে এড়ানো মানে দেশকে এড়ানো। এই ঔদাসীন্য কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়বদ্ধ করে তুলতে তাঁরা রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহিতে বাধ্য করতে লোকসভায় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন বিরোধীরা। আগামী ৮ ও ৯ আগস্ট এ বিষয়ে আলোচনার পর ১০ আগস্ট মণিপুর বিষয়ে অবস্থান জানানোর কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

গত ৩ মে মণিপুরে মাইতি ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়। এরপর দুই নারীকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর সেটি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় রাজ্যটিতে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি। সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Comments are closed.