শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেমদিবসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নজিরবিহীনভাবে এদিন সকালে নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে রবীন্দ্রনাথের অমর পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন যে, ভালোবাসা সবসময় জাত, ধর্ম ও বর্ণের বেড়াজালকে অতিক্রম করে এবং মানুষের প্রতি তাঁর কাজের নেপথ্যেও রয়েছে এই অকৃত্রিম ভালোবাসার শক্তি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এমন শুভেচ্ছাবার্তা আগে কখনও দেখা যায়নি, বিশেষত যখন সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তখন এর রাজনৈতিক তাৎপর্য গভীর।
মমতার এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীরা সুর চড়িয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় কটাক্ষ করে বলেন যে, ভারতীয়দের কাছে ভালোবাসা ৩৬৫ দিনের, তাই আলাদা করে এই দিনটির কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট শুনে হেসেই ফেলেন এবং রাসবিহারীতে তাঁদের ছাত্র সংগঠনের ‘ভালোবাসার ইস্তাহার’ নামক স্টলে মুখ্যমন্ত্রীকে ঘুরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
মূলত, ভ্যালেন্টাইন্স ডের মতো পাশ্চাত্য রীতিকে বিজেপির কট্টরপন্থীরা যেভাবে অতীতে বিরোধিতা করেছে বা ‘নীতি পুলিশি’ চালিয়েছে, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মমতা নিজেকে একজন উদারপন্থী ও প্রগতিশীল নেত্রী হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তরুণ প্রজন্মকে ছুঁতে চেয়েছেন। সম্প্রতি তৃণমূলের প্রচারে বারবার উঠে আসছে যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সম্পর্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। সুন্দরবনের দুই সমকামী তরুণীর পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে আজকের এই পোস্ট—সবই একই ধারাবাহিকতার অংশ। একদিকে বিজেপির ‘গোঁড়ামি’কে আক্রমণ এবং অন্যদিকে আধুনিক মনস্ক তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই ছিল মমতার এই ‘প্রেমদিবসের’ বার্তার আসল লক্ষ্য।