সাউথ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় পরাজয় ভারতের জন্য নতুন সমীকরণ সামনে এনেছে। ১৮৭ রান তাড়া করতে গিয়ে ১১১ রানে অলআউট হওয়া ভারতের রানরেট এখন -৩.৮। এমন বাস্তবতায় তাদের সেমিফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেছে।
এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে ভারতের গ্রুপে সাউথ আফ্রিকার সাথে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার জন্য নিয়মে কী রয়েছে?
১. চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া দুই দল সেমিফাইনালে খেলবে।
২. যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, সে ক্ষেত্রে যে দল বেশি ম্যাচ জিতেছে, তারা এগিয়ে থাকবে।
৩. পয়েন্ট ও জয় উভয়ই সমান হলে নেট রানরেটের মাধ্যমে অবস্থান নির্ধারণ হবে।
৪. নেট রানরেটও সমান হলে দলগুলোর মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল বিবেচনা করা হবে।
৫. এরপরও যদি দলগুলোকে আলাদা করা না যায়, তাহলে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আইসিসি টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ক্রম নির্ধারিত হবে।
ভারত সর্বোচ্চ কত পয়েন্ট পেতে পারে, সেটি এখন পরিষ্কার। সাউথ আফ্রিকার কাছে হেরে যাওয়ার পর দলটি এখন বাকি দুই ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট পাবে। কাগজে-কলমে কাজটি সহজ: ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়েকে আর ১ মার্চ ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে। এরমধ্যে একটিতে হেরে গেলে ভারতের সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। যেটুকু সম্ভাবনা থাকবে, সেটিও অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল এবং নেট রানরেটের ওপর নির্ভর করবে।
ভারত তাদের বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও যে সেমিফাইনালে যাবে, সে নিশ্চয়তা নেই। জয়ের পাশাপাশি নেট রানরেটের ক্ষতিও কাটিয়ে উঠতে হবে। কারণ, গ্রুপের তিনটি দলের পয়েন্ট ৪ হওয়া খুবই সম্ভব, আবার একটি দলের ছয় ও দুটি দলের চার পয়েন্ট করে হওয়াও সম্ভব।
তাই ভারতের কাজ শুধু ম্যাচে জয়ী হওয়া নয়, ভালোভাবে জেতাও। যার অর্থ হচ্ছে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করলে দ্রুত রান তাড়া করা, আর আগে ব্যাটিং করলে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করা।
সূর্যকুমারদের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় যদি সাউথ আফ্রিকা তাদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় ব্যবধানে হারায়। এতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে তো উঠবেই, পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট কম থাকবে। সে ক্ষেত্রে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ের ম্যাচে যে দলই জিতুক, কারও মোট পয়েন্ট চারের বেশি হবে না। আর ভারতও এ দুটি দলকে হারিয়ে দিলে ৪ পয়েন্ট পেয়ে যাবে। তখন রানরেট হয়ে উঠবে মুখ্য।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা জিম্বাবুয়ের কেউ যদি সাউথ আফ্রিকাকে হারায়, তাহলে ভারতের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।