ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহতম জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এই বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানা এই জোড়া কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও উৎপত্তিস্থল
প্রথম কম্পন: রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.২। ভেনেজুয়েলার ইয়্যারাকুই প্রদেশের ভেরোস পৌরসভায় মাটি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল ছিল।
দ্বিতীয় কম্পন: প্রথমটির ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর একই এলাকায় মাটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭.৫ মাত্রার আরও একটি প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
আফটারশক: মূল ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ২০টিরও বেশি মাঝারি ও তীব্র আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, এই সংখ্যা তত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানী কারাকাসের চ্যাকাও এবং বারুতা মিউনিসিপ্যালিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ও পুরোনো আবাসিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।
ভূমিকম্পের পরপরই পুরো কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। গুরুতর অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় উপকূলীয় পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জোড়া ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার বোগোতা এবং ব্রাজিলের ম্যানাউস ও বেলেম শহরও কেঁপে ওঠে। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
ভেনেজুয়েলা সরকার দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি সমস্ত স্কুল-কলেজ, অফিস ও গণপরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে যেন নতুন করে অগ্নিকাণ্ড না ঘটে। সেনাবাহিনী, রেড ক্রস এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবনগুলো থেকে জীবিতদের উদ্ধারে তীব্র তল্লাশি চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভেনেজুয়েলাকে জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।