পাবনার ঈশ্বরদীর লিচুর সুনাম দেশজুড়ে। গতবছর ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এ বছর লিচু বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় গেল বছরের চেয়ে বেশি লিচু উৎপাদনের আশা করছেন চাষিরা।
মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যে গাছে মুকুল আসে না সেগুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতায় ছেয়ে যায়।
ঈশ্বরদীতে তিন জাতের লিচুর চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে দেশি, চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকায় বর্তমানে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।
উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তারপুর, কদিম পাড়া, মানিকনগর, ছিলিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে।
নওদাপাড়ার লিচু চাষি ইয়াসিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুল বেশি। আমার ১৩০-১৪৫টি লিচুর গাছ আছে। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।
মিরকামারী এলাকার লিচু চাষি ও ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিন বলেন, গেল বছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।
কোলাকান্দি জয়নগরের জাহিদ হাসান জানান, প্রতিবছর ৭/৮ লক্ষ টাকার লিচু গাছ বিক্রি করি। এবছর যেভাবে মুকুল এসেছে আশা করছি অনেক বেশি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব।
জগন্নাথপুর এলাকার লিচু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিবছর আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর লোকসান হলেও এবারের অবস্থা অনেকটাই ভালো। প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এ বছর পাবনায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিছুর চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মুকুল অনেক বেশি এসেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈশ্বরদীতে ৮০'র দশক থেকে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হয়। উপজেলাজুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে ১১ হাজার ২৭০টি লিচুর বাগান রয়েছে।