২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন লিওনেল মেসি। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকসের (আইএফএফএইচএস) পারফরম্যান্স সূচকে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করেছে।
এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর ফিফার দেওয়া ব্যক্তিগত পুরস্কারে গোল্ডেন বল জেতেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। মেসি পান সিলভার বল, আর ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে পান ব্রোঞ্জ বল।
সোমবার এক বিবৃতিতে আইএফএফএইচএস জানায়, বিশ্বকাপে একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদান মূল্যায়নে তাদের নিজস্ব তথ্যনির্ভর সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ম্যাচ রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট এবং বিশেষ করে নকআউট পর্বে প্রভাব, সবকিছুই নির্দিষ্ট ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সেই বিশ্লেষণে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে লিওনেল মেসি।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, 'বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রতিটি পারফরম্যান্সের বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর আমাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট। লিওনেল মেসিই আইএফএফএইচএসের নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়। এই স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন আবেগ বা খ্যাতির কারণে নয়, বরং পরিসংখ্যানের নির্ভুল মূল্যায়নের ভিত্তিতে।'
৩৯ বছর বয়সী মেসি টুর্নামেন্টে সাতটি ম্যাচে খেলেছেন মোট ৬২৬ মিনিট। এই সময়ে তিনি করেছেন ৮ গোল এবং করিয়েছেন ৪টি, অর্থাৎ সরাসরি ১২টি গোলে অবদান রেখেছেন। আইএফএফএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচে তার গড় রেটিং ছিল ৮.৩৩।
আইএফএফএইচএসের মতে, মেসির এই রেটিং কোনো এক-দুটি অসাধারণ ম্যাচের ফল নয়; বরং গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট এবং ফাইনাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। বিশেষ করে নকআউট পর্বে তার প্রভাবকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বকাপে একজন ফুটবলারের প্রকৃত মহত্ত্ব নির্ধারিত হয় নকআউট পর্বে দলের জন্য কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন, তার ওপর। সে বিবেচনায় মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্স সূচক টুর্নামেন্টের অন্য সব খেলোয়াড়কে ছাড়িয়ে গেছে।
১৯৯১ সাল থেকে ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করে আসা আইএফএফএইচএস জানিয়েছে, বিশ্বের সেরা পারফরম্যান্সকে তথ্য ও পরিমাপের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করাই তাদের লক্ষ্য, আর সেই মানদণ্ডে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।