বাড়ির নিচে রাজনৈতিক কর্মীদের স্লোগান, ঘরেই হাউ মাউ করে শ্রদ্ধা কপূরের কান্না!

বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী তিনি। রুপালি পর্দার চাকচিক্য আর গ্ল্যামারের মাঝে থাকলেও ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত মিতভাষী এবং প্রচারবিমুখ হিসেবে পরিচিত শ্রদ্ধা কপূর। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে চার দেয়ালের আড়ালে রাখতেই বরাবর পছন্দ করেন তিনি। কিন্তু ২০২২ সালে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে তাঁর সেই আড়ালটুকুও ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বাড়ির নিচে রাজনৈতিক কর্মীদের তীব্র স্লোগান আর ক্রমাগত হেনস্থায় ঘরে বসে হাউ হাউ করে কেঁদেছিলেন এই অভিনেত্রী।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের জুন মাসে। বেঙ্গালুরুতে একটি মাদক মামলায় নাম জড়িয়েছিল শ্রদ্ধার ভাই সিদ্ধান্ত কপূরের। পুলিশ তাঁকে আটক করার পর থেকেই মুম্বইয়ে শক্তি কপূরের বাড়ির সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। সেই ভিড় কেবল সংবাদমাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; শীঘ্রই সেখানে যোগ দেয় কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রদ্ধার মাসি তথা অভিনেত্রী তেজস্বিনী কোলহাপুরী সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান, বাড়ির বাইরে তখন শয়ে শয়ে মানুষের চিৎকার আর স্লোগান চলছে। জনরোষের সেই তীব্রতা এবং পরিবারের ওপর নেমে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত এই আক্রমণে শ্রদ্ধা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাইরের সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চাপে নিজের ঘরের ভেতরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।
তেজস্বিনীর মতে, সিদ্ধান্ত কপূর কোনো অন্যায় করেননি। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত একজন পেশাদার ডিজে। ও ভারতের বিভিন্ন নামী ক্লাবে পারফর্ম করে। সেদিনও ও কাজের জন্যই সেখানে গিয়েছিল। ও কেবল ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিল। কিন্তু যেহেতু ও একটি বিখ্যাত পরিবারের সন্তান, তাই ওর ওপর কাদা ছেটানো সহজ ছিল।”
পরবর্তীকালে তদন্তে সিদ্ধান্ত কপূর নির্দোষ প্রমাণিত হলেও, সেই সময়কার ঘটনাগুলি শ্রদ্ধা এবং তাঁর পরিবারের ওপর এক গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করে দিয়ে গিয়েছে। মাসি তেজস্বিনীর আক্ষেপ, যে ধরনের হেনস্থা ও অপমানের শিকার ওই কদিন তাঁদের হতে হয়েছিল, তা ছিল অকল্পনীয়। বিশেষ করে ভাইয়ের জন্য শ্রদ্ধার সেই অসহায় কান্না আজও তাঁদের পরিবার ভুলতে পারেনি।

















