রাজশাহীর বাগমারায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আ ন ম শামছুর রহমান মিন্টুর মদদে গড়ে ওঠা ‘সিক্স স্টার’ নামক একটি সশস্ত্র বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
গত ২১ মার্চ শনিবার ঈদুল ফিতরের রাতে এই বাহিনীর সদস্যরা তাহেরপুর পৌরসভার নূরপুর মহল্লায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে এবং গলায় হাঁসুয়া ধরে প্রায় আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে তাহেরপুর পৌর সদরের হরিতলা মোড়ে বিএনপি নেতা মিন্টুর উপস্থিতিতে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১২-১৪ জনের একটি সশস্ত্র দল নূরপুর মহল্লায় তাণ্ডব শুরু করে। হামলায় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার বাড়ির আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।
এরপর ছাত্রলীগ কর্মী ফরিদ ও শামীম ওসমানের বাড়িতেও হানা দেয় সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় সোহেল রানার বাবা আব্দুল গাফ্ফার রোববার (২২ মার্চ) বাগমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যেখানে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আশরাফুল পেয়াদা ও কৃষক দল নেতা রাসেল ফরাসিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘সিক্স স্টার’ বাহিনীর চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও ভীতসন্ত্রস্ত। গত ১ ডিসেম্বর এই বাহিনী জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেছিল।
যদিও গত ২৩ জানুয়ারি এই বাহিনীর দুই সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করেছিল সেনাবাহিনী, কিন্তু পুলিশি শিথিলতায় তারা দ্রুতই জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শামছুর রহমান মিন্টু দাবি করেছেন, এসব ঘটনার সাথে তার কোনো যোগসূত্র নেই। বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম জানান, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।