বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান

দীর্ঘ সতেরো বছরের প্রবাস জীবন ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সব সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর পর্যায়ক্রমে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বড় সন্তান হিসেবে দলের হাল ধরে এবং মায়ের মৃত্যুর শোক সামলে নির্বাচনী যুদ্ধে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এই নিরঙ্কুশ বিজয় ছিনিয়ে আনেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ সালের নির্বাচনে দলের ভেতরে সক্রিয় হওয়া তারেক রহমানের জন্য এই বিজয় এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এক-এগারোর সরকারের সময় তাকে একাধিক মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হতে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি সরাসরি নেতৃত্বের হাল ধরেন। বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু এবং পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের কঠিন চ্যালেঞ্জ তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছেন। এবারই প্রথম তিনি নিজে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুটি আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচনের অন্য শরিক ও দলগুলোর মধ্যে জামায়াত ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যু ও আইনি জটিলতায় তিনটি আসনের ফলাফল স্থগিত বা বাতিল রয়েছে। তারেক রহমানের এই বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো।

















