শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের হাতে একটি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছে সরকার। তবে এই সহায়তা গ্রহণের পরও থেমে নেই শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, পুনর্বাসন কোনোভাবেই হত্যাকাণ্ডের বিচার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারে না।
মঙ্গলবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি রেডি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শহীদ ওসমানের স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা জানান, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে তিনি ও তাঁর সন্তান ফিরনাস যমুনায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ফিরনাসের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও দেখাশোনার বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই অংশ হিসেবে ফ্ল্যাটের কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে ওই পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যমুনায় যাওয়ার পথে তাঁর আন্দোলনরত ভাইবোনদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এখনো একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে, যারা পূর্ববর্তী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করছে।
রাবেয়া ইসলাম শম্পা জানান, তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে স্পষ্ট করে বলেছেন—যদি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হয়, তবে তাঁর সন্তান ফিরনাস কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করবে না। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁর হাতে থাকা সব ধরনের সামর্থ্য ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এমনকি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেও এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তিনি আরও জানান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চাকরি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা খোঁজ নিলেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—চাকরির ক্ষেত্রে তিনি নিজের যোগ্যতার ওপরই নির্ভর করতে চান।
সব মিলিয়ে, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ঘটনাটি শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের একটি দিক হলেও, তাদের মূল লড়াই যে ন্যায়বিচারের জন্য—তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও দাবি অব্যাহত থাকবে।