নতুন ইতিহাস গড়লেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তার সম্পদের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াল। মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স তার মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্সএআই অধিগ্রহণ করার পর এই মাইলফলক ছুঁলেন মাস্ক।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য বলছে, এই চুক্তিতে যৌথ কোম্পানির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার। ফলে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ৮৪ বিলিয়ন ডলার—মোট সম্পদমূল্য বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন বা ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
এই চুক্তির আগে মাস্কের হাতে স্পেসএক্সের মালিকানা ছিল আনুমানিক ৪২ শতাংশ। এই শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৩৬ বিলিয়ন বা ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ডিসেম্বর মাসে দেওয়া দরপত্রের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন এই রকেট কোম্পানির মোট মূল্যায়ন করা হয়েছিল ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার। এছাড়াও, চলতি মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান হয়। এতে এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি ডলার। সেই হিসাবে কোম্পানিটিতে ইলন মাস্কের আনুমানিক ৪৯ শতাংশ অংশীদারত্বের মূল্য দাঁড়ায় ১২২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
একীভূতকরণের পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআইয়ের ২৫০ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, যৌথ কোম্পানিতে মাস্কের মালিকানা এখন প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার মূল্য ৫৪২ বিলিয়ন বা ৫৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
স্পেসএক্স এখন মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তার কাছে টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ১৭৮ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। টেসলার শেয়ার অপশন আছে আরও প্রায় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে গত নভেম্বর মাসে মাস্কের জন্য অনুমোদিত রেকর্ড পারিশ্রমিক প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইলন মাস্কের দুটি কোম্পানি একীভূত হলো। গত মার্চে তিনি ঘোষণা দেন, তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত হয়েছে। ওই চুক্তিতে এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয় ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি ডলার এবং এক্সের ৩৩ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে ঋণ বাদ দিয়ে টুইটার অধিগ্রহণে মাস্ক যে অর্থ দিয়েছিলেন, এটা তার প্রায় সমান।
তবে এসব চুক্তিতে মাস্ক একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় ছিলেন। ফলে মাস্ক ঘোষিত মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এখন সব প্রতিষ্ঠানই স্পেসএক্সের কাঠামোর মধ্যে এসেছে। সেই সঙ্গে স্পেসএক্স চলতি বছরের শেষ দিকে আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে শিগগিরই এসব কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের কঠোর নজরদারির মুখোমুখি হতে হবে।
গেল ডিসেম্বর মাসে ইলন মাস্ক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক অর্জন করেন। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্ট একাডেমি বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইলন মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার এক লাখ কোটি ডলারের মালিক হতে পারেন। সেই পথেই এগোচ্ছেন তিনি।