রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে ছুরি ও পিস্তলের ভয় দেখানো এবং নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে
অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা করছেন। ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ছাত্রী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলেও অভিযুক্ত পিছু না হটে উল্টো চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রবিবার বিকেলে মহসিন জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং পুনরায় প্রস্তাব দেন। তা প্রত্যাখ্যান করলে তিনি ছুরি বের করে ভয় দেখান এবং নিজের কাছে পিস্তল আছে বলে হুমকি দেন। ভয়ে ছাত্রী কান্নাহাটি শুরু করলে তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও রাস্তায় আবারও তাকে নদীর পাড়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফোনে কল করে আত্মহত্যার হুমকি দেন। এছাড়া অভিযুক্তের এক সহযোগী ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে জানানো হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করা হলেও রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন বা নিয়মিত কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্ত দোষী বা নির্দোষ বলা ঠিক হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহসিন পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা চালান।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মহসিন আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, "ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সোমবার দুপুরে অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"