মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ দলের শেষ সাতটি উইকেট পড়েছে দ্রুত। ফলে লাঞ্চের খানিক পর প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে থামতে হয়েছে চারশোর পরেই। ৪১৩ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
৯২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস, ১১৩ রানে ৩ উইকেট নেন শাহীন। আগের দিন নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি আর মুমিনুল হকের ৯০ ছাড়ানো ইনিংসের পর মুশফিকের ব্যাট থেকেও আসে ৭১ রান।
৭ উইকেটে ৩৮০ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। ফিরেই প্রথম দুই ওভারে আর ৪ রান যোগ করতেই স্কোরকার্ড পরিণত হয় ৯ উইকেটে ৩৮৪ রানে। পরে নাহিদ রানাকে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩৯ বলে ২৯ রান যোগ করেন তাসকিন। ১৯ বলে ২৮ রান করে আউট হন তিনি।
দ্বিতীয় দিনে ৩ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে নামা বাংলাদেশ ১১২ রান যোগ করতে হারায় শেষ ৭ উইকেট। লাঞ্চের পর নেমে মুখোমুখি তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে যান শেষ ভরসা মুশফিক। শাহীন আফ্রিদি অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এসে বল করেছিলেন, মুশফিক লাইন মিস করায় ব্যাট-প্যাডে থেকে যায় বড় ফাঁক। সেটা গলিয়েই স্টাম্প উড়ে যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারের। নিজের ৩৯তম জন্মদিনে ১৭৯ বলে ৭১ রান করে ফিরেন মুশফিক।
আব্বাস ঠিক পরের ওভারে বাড়তি লাফানো বলে কাবু করেন ইবাদতকে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে দখল করেন পাঁচ উইকেট। চারশোর আগেই মুড়ে যাওয়ার শঙ্কা পার করান তাসকিন। চার-ছক্কায় ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে স্বস্তির জায়গায় নেন তিনি।
তবে স্কোরটা হতে পারত আরও অনেক বড়। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ, দুজনেই ভুল সময়ে বাজে শটে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দেন। দিনের প্রথম ঘণ্টা অনায়াসে পার করার পর রান বাড়ানোর তাড়ায় লিটন আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল অহেতুক পুল করতে গিয়ে মিড অফে ধরা দেন ৫ চারে ৩৩ রান করে।
মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রিজে এসেও ছিলেন ছটফটে। আব্বাসকে পুলে ছক্কায় উড়িয়ে পাঞ্চ করে চার মারতে গিয়ে তুলে দেন সহজ ক্যাচ। ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। লাঞ্চের ঠিক আগে তাইজুলকে ছেঁটে চতুর্থ শিকার ধরেন আব্বাস। লাঞ্চের পর ফিরে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করতে সময় নেননি তিনি। শেষ উইকেট জুটি মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেওয়ায় মিরপুর টেস্টে এখনো ভালো অবস্থানেই আছে টাইগাররা।