প্রথমবার পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আইনি জটিলতায় নিহিত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার এবং কারাবন্দী আসামিদের স্বজনদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় এক নাটকীয় মোড় যুক্ত হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি দীর্ঘ আইনি পথ পাড়ি দিয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা প্রদান করেন। বর্তমানে এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি। চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, এই মামলার সম্পূরক চার্জশিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তৎকালীন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রসিকিউশনের মতে, বিদ্যমান আইনে এই ধরনের সম্পূরক চার্জশিট ও নতুন আসামি অন্তর্ভুক্তির পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে প্রবল হতাশা দেখা দিয়েছে। আইনজীবী পারভেজ হোসাইন জানান, হত্যা মামলায় অনেক আসামি খালাস পেলেও বিস্ফোরক মামলায় এখনো চার্জশিটভুক্ত থাকায় তারা জামিন পাচ্ছেন না। এই আইনি মারপ্যাঁচে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নতুন করে রাজনৈতিক নেতাদের নাম যুক্ত হওয়ায় মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হলেও, এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঠিক কবে নাগাদ হবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

















