প্রতি জুমায় একটি উট কোরবানি করার সুযোগ হারাবেন না

সপ্তাহের সাতটি দিনের মধ্যে জুমাবার বা শুক্রবার ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় দিন। এই দিনটিকে মুমিনের জন্য ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—এই দিনে আগেভাগে মসজিদে গিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উট কোরবানি করার সমান সওয়াব অর্জনের সুযোগ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাত বা অপবিত্রতা পরবর্তী গোসলের মতো উত্তমরূপে গোসল করে সবার আগে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল।
তবে এই সওয়াবের ধারা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে মসজিদে আসে, সে একটি গাভী কোরবানির সওয়াব পায়। তৃতীয় পর্যায়ে আগমনকারী পায় একটি শিং-বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানির সওয়াব। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ে যারা আসে, তারা যথাক্রমে একটি মুরগি এবং একটি ডিম সদকা করার সমান সওয়াব লাভ করে। এই পর্যায়গুলো মূলত সময়ের বিন্যাস। ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান করে আগন্তুকদের নাম ক্রমানুসারে সওয়াবের খাতায় লিখতে থাকেন। তবে ইমাম যখন খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে যান, তখন ফেরেশতারা তাদের খাতা বন্ধ করে দেন এবং নিজেরাও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে বসেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার আজান হওয়ার সাথে সাথে বেচাকেনা ও দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জুমার নামাজের কেবল দুই রাকাত নামাজ আদায়ই যথেষ্ট নয়, বরং খুতবা শোনাও এর অপরিহার্য অংশ। তাই খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে পৌঁছানো জরুরি। খুতবা চলাকালীন কোনো কথা বলা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা বা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ; কারণ এতে জুমার পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
জুমার দিনের পূর্ণ বরকত লাভে আগেভাগে প্রস্তুতির বিকল্প নেই। উত্তমরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, সাধ্যমতো নতুন বা পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করে ধীরস্থিরভাবে আল্লাহর ঘরের দিকে রওনা হওয়া সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। দুনিয়াবি শত ব্যস্ততার মাঝেও যদি আমরা একটু সময় সচেতন হই, তবে প্রতি সপ্তাহেই আমাদের আমলনামায় একটি উট কোরবানি করার মতো বিশাল নেকি যোগ হতে পারে। তাই অলসতা বা অবহেলায় এই বিশেষ মর্যাদা যেন হাতছাড়া না হয়, সেদিকে প্রতিটি মুমিনের খেয়াল রাখা উচিত।

















