রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ বছর এবং তার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম রায় ঘোষণা করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে একটি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে অন্য মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের তিন সদস্য ছাড়াও আদালত আরও ১১ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্য একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর মামলায় আরও ছয় আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত দুটি মামলায় হাসিনা ও টিউলিপসহ ১৪ জন অভিযুক্তকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আর আজমিনা ও ববিসহ বাকি আট অভিযুক্তকে একটি মামলায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে চারটি দুর্নীতি মামলায় হাসিনাকে ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বোন শেখ রেহানা ও ভাগ্নি টিউলিপকেও চারটি মামলার একটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি দুদক ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ ছয়টি পৃথক মামলা দায়ের করে।
গত বছরের ২৫ মার্চ দুদক ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ছয়টি অভিযোগপত্র দাখিল করে। ছয়টি মামলাতেই শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। একই বছরের ৩১ জুলাই হাসিনা, রেহানা, জয়, পুতুল, ববি, টিউলিপ ও আজমিনাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে শেখ হাসিনা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক অঞ্চলে অবৈধভাবে ছয়টি প্লট (প্রতিটি ১০ কাঠা) নিজের জন্য, পুতুল, জয়, রেহানা, ববি ও আজমিনার জন্য অবৈধভাবে বরাদ্দ নেন, যদিও তারা এসব প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।
দুদকের দাবি, টিউলিপ হাসিনাকে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য প্লট বরাদ্দের বিষয়ে প্রভাবিত করেছিলেন।