পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। পুলিশ দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে।
এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (প্রথম পর্যায়) সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তায় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যেন সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে হবে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএসের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ আজ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো। এর মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন ৫৮ জন এএসপি।
এর আগে প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ এএসপি মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার ও বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড—দুই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান।
এ ছাড়া শিক্ষানবিশ এএসপি আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড ও শিক্ষানবিশ এএসপি এ বি এম মামুন বেস্ট শুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান (মিনু), পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির ও পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।