পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, কোনো সমঝোতা নয়: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। তাকে থামাতে তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে সরকারি দপ্তরে বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলেনস্কি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এই যুদ্ধ কেবল ইউক্রেনের বিজয়ের মাধ্যমেই শেষ হবে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী কৌশলগত অঞ্চলগুলো ছেড়ে দিয়ে কোনো প্রকার যুদ্ধবিরতি বা আপস করার প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি পুতিন ইতোমধ্যেই এটি শুরু করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কতটা ভূখণ্ড দখল করতে পারবেন এবং তাকে কীভাবে থামানো যাবে। রাশিয়া আসলে বিশ্বের ওপর তাদের ভিন্ন জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায়।”
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশ দাবি করছে। এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, “এটি শুধু জমি নয়, বরং লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ ত্যাগ করার শামিল। আমি এটাকে শুধু জমি হিসেবে দেখি না। এটি আমাদের অবস্থান দুর্বল করা এবং সেখানে বসবাসরত শত-সহস্র মানুষকে পরিত্যাগ করা। এই পিছু হটা আমাদের সমাজকে বিভক্ত করে ফেলবে।”
পুতিনের অভিসন্ধি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারেন, কিন্তু সেটা হবে কেবল শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল। তার মতে, “পুতিন এখন বিরতি চান, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে তিনি পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে আবারও হামলা চালাবেন।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিমা কূটনীতিকদের ধারণা, ট্রাম্প মনে করেন ভূখণ্ডগত ছাড়ই হতে পারে যুদ্ধবিরতির চাবিকাঠি। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়ছি এবং আমরা হারব না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি পেতে হলে তা অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদনসহ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট বদলায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান থাকে।”
ইউক্রেনে সামরিক আইনের কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিতে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ শেষের শর্ত হিসেবে নির্বাচন দিতে তার কোনো আপত্তি নেই, তবে তা হতে হবে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপায়ে। নির্বাচনে নিজের অংশগ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমি লড়তেও পারি, নাও পারি।”
সাক্ষাৎকারের শেষে জেলেনস্কি বর্তমানে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে ‘আকাশ প্রতিরক্ষা’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের অংশীদারেরা এখনো আমাদের নিজস্বভাবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দিচ্ছে না।”

















