পাকিস্তানের দ্বিচারিতা, স্রেফ ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়: বিসিসিআই

ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্বে নতুন ঘি ঢালল বিসিসিআই-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং সে দেশের সরকারের অবস্থানকে সরাসরি ‘দ্বিচারিতা’ বলে আখ্যা দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। একই সঙ্গে এই বিতর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও (বিসিবি) কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তারা।
সম্প্রতি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনো ম্যাচ খেলবে না। পিসিবি-র এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বিসিসিআই-এর এক উচ্চপদস্থ কর্তা ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বলেন, এটি স্রেফ ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।
ওই কর্তার যুক্তি, “পাকিস্তান সরকার যেদিন ঘোষণা করল তারা ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে না, ঠিক সেই দিনই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দল ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল। এটি চরম দ্বিচারিতা। বড়দের দল খেলবে না অথচ ছোটদের দল খেলছে—এই যুক্তির কোনো ভিত্তি নেই।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, পিসিবি এবং পাক সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পিসিবি-র প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং বোর্ড প্রধান মহসিন নকভি খোদ সে দেশের একজন মন্ত্রী।
পাকিস্তান ছাড়াও বিসিসিআই-এর কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই সূত্রের দাবি, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় দেশই অযৌক্তিকভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ দল কেন ভারতে খেলতে আসতে অনীহা দেখাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিসিসিআই।
বিসিসিআই-এর ওই সূত্র স্পষ্ট জানান, আইসিসি-র প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে—এমন একটি সমঝোতা আগেই হয়েছিল। কিন্তু এখন ম্যাচ বয়কট করার বিষয়টি নিছকই এক ‘বাহানা’ বলে মনে করছে ভারতীয় বোর্ড। তাদের মতে, নিরাপত্তা বা অন্য কোনো কারণ নয়, বরং পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে রাজনীতি করতেই বেশি আগ্রহী।

















